কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে চিলমারী উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নে পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে চিলমারী ইউনিয়নের বিশালপাড়া এলাকায় কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বেবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল বারী সরকার, কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. আবু হানিফা, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক মো. ফজলুল হক, সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম কাজী, মহিলা নেত্রী মোছা. শাহনাজ সুলতানা এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আছির উদ্দিন ও শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছর চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনরোধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৪২টি স্থানে নদীভাঙন চলছে। গত ১০ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নতুন স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে মানুষ শুধু জমিজমা নয়, তাদের শৈশব, স্মৃতি ও সামাজিক বন্ধনও হারাচ্ছেন। অনেক পরিবার জানে না বন্যার সময় কোথায় আশ্রয় নেবে বা গবাদিপশু ও শিশুদের কোথায় নিরাপদে রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার দুই কোটিরও বেশি মানুষ নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের নানা সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশ থেকে নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন টেকসই হবে না।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

