‎ বন্ধুর সামনে ছিনতাইকারীদের হামলা, দুই দিন পর ব্রহ্মপুত্রে মিলল শাওনের মরদেহ ‎

0
195
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে উঠল আনন্দ মোহন কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ / ছবি - এই বাংলা

বিশেষ প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদ–এ ভেসে উঠেছে আনন্দ মোহন কলেজ–এর তৃতীয় বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬)–এর মরদেহ। ছিনতাইকারী কিশোর দলের হামলার পর নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর শুক্রবার (রাত পৌনে ১১টা) নদীর চরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) জয়নুল আবেদিন উদ্যান থেকে নদীর বিপরীত তীরে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দল তাদের ঘিরে ধরে এবং সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা বের করতে চাপ দেয়। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা না থাকায় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সহপাঠীরা জানান, শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে দুই বন্ধু পালানোর চেষ্টা করলে চারজন শাওনের পিছু নেয় এবং তিনজন রিয়াদের পিছু নেয়। রিয়াদ সাঁতরে নদী পার হতে সক্ষম হলেও শাওনের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে নদীর তীরে শাওনের ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দিনভর অনুসন্ধান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাতে নৌকার মাঝিরা নদীর চরে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, “আমরা একজনকে ধরে সবার নাম-ঠিকানা পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু এখনো বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।”

আনন্দ মোহন কলেজ–এর তৃতীয় বর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন / ছবি – সংগৃহীত

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা–তে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানান, “লাশ ভাসতে দেখে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিদের খোঁজে অভিযান চলছে।”

ঘটনাটি নিয়ে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও নদীতীর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here