প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন: এক ঐতিহাসিক দলিলের আত্মপ্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রচিত ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক তিন খণ্ডের বিশাল আকৃতির একটি বিশেষ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই ঐতিহাসিক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রটোকল-টু কামরুল ইসলাম, প্রবাসী দলের সহ-সভাপতি ডা. মোস্তফা নওশাদ জাকি।

বিশিষ্ট গবেষক, সাহিত্যিক, ঔপন্যেসিক ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা কালাম ফয়েজী দুই দশক ধরে রচনা করেন এই তিন খণ্ডের মহাকাব্যিক এই গ্রন্থ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, দূরদর্শী নেতৃত্ব, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন দর্শন এবং জাতীয় জীবনে তাঁর বহুমাত্রিক অবদান অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের পারিবারিক জীবন, ব্যক্তিগত জীবন এবং ধর্মীয় জীবন নিয়েও এখানে বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা করেছেন। দেশকে নিয়ে জিয়াউর রহমানের ভাবনা, দেশের মানুষকে উজ্জীবিতকরণ এবং দেশের বাইরে দেশের মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপের আলোচনাও এখানে স্থান পেয়েছে।

সুদীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিল তিল করে সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত এবং গবেষণার ওপর ভিত্তি করে লেখক এ দালিলিক মহাগ্রন্থ সাজিয়েছেন।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা যে ইতিহাস বিকৃতি ও চরিত্র হননের চেষ্টা করেছে, তার একটি তথ্যভিত্তিক ও প্রামাণ্য জবাব বা পাল্টা আখ্যান (Counter-narrative) তৈরি করাই ছিল এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বহুমাত্রিক তথ্য উপাত্তের সমাহার

গ্রন্থটিতে। শহীদ প্রেসিডেন্টের জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে আলাদা আলাদা শিরোনামে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে, যা সাধারণ পাঠক ও গবেষকদের জন্য একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে কাজ করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :

জিয়াউর রহমানের পারিবারিক ঐতিহ্য, তার শৈশবকাল, কিশোর কাল এবং ছাত্রজীবন সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব,
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ-এর তাত্ত্বিক ভিত্তি ও বহুদলীয় রাজনীতির সুনির্দিষ্ট বিন্যাস,
স্বাধীন ও স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।

দেশ গঠনে জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী ১৯-দফা কর্মসূচি, খালকাটা আন্দোলন, কৃষিবিপ্লব, শিক্ষা ও শিল্পবিপ্লব, স্বাস্থ্য বিপ্লব সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা এসেছে এই গ্রন্থে।

বিশ্বনেতাদের সাথে তার তুলনা করে লেখক জিয়াউর রহমানকে এক উচ্চ মাত্রা দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানকে বিশ্ব ইতিহাসের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব—যেমন আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন, তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক কিংবা রোমান শাসক জুলিয়াস সিজারের মতো মহানায়কদের সমকক্ষ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

বইটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সাহিত্যমান। ইতিহাস বা রাজনীতির বই সাধারণত অতিরিক্ত তথ্যের ভারে নীরস থাকে। কিন্তু গবেষক ও সাহিত্যিক কালাম ফয়েজীর ঝরঝরা গদ্য, চমৎকার শব্দচয়ন এবং সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি দিয়ে পাঠককে আটকে রাখার চেষ্টা করেছেন। কঠিন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহকে তিনি অত্যন্ত সুখপাঠ্য করে উপস্থাপন করেছেন।

ইতিহাস ও রাজনীতির শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য।

যদিও গ্রন্থের কিছু অংশে জিয়াউর রহমানের প্রতি লেখকের গভীর অনুরাগের কারণে শ্রদ্ধামিশ্রিত আবেগ প্রকাশ পেয়েছে, তবুও প্রতিটি প্রাসঙ্গিক আলোচনার সঙ্গে রেফারেন্স বা সূত্রের ব্যবহার বইটিকে একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স বুকে পরিণত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পাঠকদের মতে, যারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এর তাত্ত্বিক ভিত্তি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক এর মোড়ক উন্মোচনের ফলে গ্রন্থটির গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বইটি দেশের সচেতন নাগরিকসহ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতিটি নেতা-কর্মীর সংগ্রহে রাখার মতো একটি অনন্য সম্পদ। সবচেয়ে ভালো হয় দেশের প্রতিটি শিক্ষা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে এক সেট গ্রন্থ সংগ্রহে রাখলে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংগ্রহেএই গ্রন্থ থাকলে শিক্ষকগণ পাঠ করতে পারবেন এবং ছাত্র ছাত্রীদেরকে এ বিষয়ে সঠিক ধারণা দিতে পারবেন।

এই বাংলা/এমএস
টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here