কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নীলকমল নদীর ওপর নির্মিত নড়বড়ে কাঠের সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ভূরুঙ্গামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের দুটি সেতু নির্মাণের বিনিময়ে ফুলবাড়ীর নাখারজান সীমান্তে নীলকমল নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা হয়। ভারত তাদের অংশের সেতু নির্মাণ করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় বাংলাদেশ অংশে সেতু নির্মাণ আর বাস্তবায়ন হয়নি।
পরে ২০১৭ সালে কাঠ ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় মানুষ কলার ভেলায় নদী পারাপার করতেন। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় ২০২৪ সালে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৬ মিটার প্রশস্ত একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে দুই বছরের মাথায় সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে সংস্কার করা হলেও মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেতুটি আবারও নড়বড়ে হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের কুচবিহার জেলার সেউটি গ্রাম থেকে নেমে আসা নীলকমল নদী সীমান্তবর্তী কুটিচন্দ্রখানা গ্রামকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর পশ্চিম তীরে নাখারজান এবং পূর্ব তীরে কুটিচন্দ্রখানার মূল অংশ। নাখারজান গ্রাম তিন দিক থেকেই ভারতীয় সীমান্তে বেষ্টিত। ফলে সেতুটিই প্রায় ২০০ পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল মিয়া বলেন, নাখারজান, কুড়ারপাড়, কুটিচন্দ্রখানা, চোত্তাবাড়ি, আব্দুল্লাহ বাজার, গঙ্গারহাট, চাঁদের বাজার, বিদ্যাবাগিশ, জুম্মারপাড় ও নন্দীরকুটি গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করেন। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে এ পথেই যাতায়াত করেন।
আরেক বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল করে। সেতুর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
শিক্ষার্থী মনি আক্তার জানায়, একদিন স্কুলে যাওয়ার সময় সেতু থেকে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। পরে একজন স্বজন তাকে উদ্ধার করেন। সেই ঘটনার পর থেকে একা সেতু পার হতে ভয় লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ মিয়া বলেন, যথাযথভাবে সংস্কার না করায় সেতুটি আবারও নড়বড়ে হয়ে গেছে। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই মানুষ চলাচল করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. মামুনুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বছরের শুরুতে সেতুটি সংস্কার করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ ছিল সীমিত, তাই স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন করে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

