
পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন জহির উদ্দিন আহমেদ। তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং অতীতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।
পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর জহির উদ্দিন আহমেদ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ নির্বাচনে তাঁর প্রতীক ‘দেয়ালঘড়ি’।
এর আগে এই আসনে জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হঠাৎ করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে সরে দাঁড়ালে জোটের নতুন প্রার্থী হিসেবে সামনে আসে জহির উদ্দিন আহমেদের নাম।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
জহির উদ্দিন আহমেদ পেশায় একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ। তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। চিকিৎসক হিসেবে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০১৯ সালে রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দেলওয়ার হোসেনকে মাত্র ১৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের ষষ্ঠ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই নির্বাচনের সময় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানের নির্দেশে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে জহির উদ্দিন আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন জহির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “আমি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী হওয়ায় কেউ কেউ বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। এসব অপপ্রচার আমার অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আমিই সফল হব।”
অন্যদিকে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিববুর রহমানের নির্দেশে জহির উদ্দিন আহমেদকে দলীয় উপদেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন এবং সে সময়ের ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনে জহির উদ্দিন আহমেদকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ ও বিতর্ক আগামী দিনে নির্বাচনী মাঠে আরও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
