
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) নামে এক যুবককে ডাকাত আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের ইন্ধনের অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাজারে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার ভুয়া পুলিশের বাড়ির মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের শ্যালক মোহাম্মদ জামাল অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি মনিনগর গ্রামে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় তার বাবা ওবায়দুল হকসহ তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার হাত ভেঙে যায়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তিনি আরও জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান কালিরহাট বাজারে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে ওই হামলার বিচার দাবি করেন। এ সময় নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে বিএনপি নেতা মাসুদের ইন্ধনে তার উপস্থিতিতেই কাজী বাড়ির সামনে মিজানকে আটক করা হয়। পরে নুর মোহাম্মদ বাচ্চু (৬০), তার ছেলে যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন (৩২), শিহাব উদ্দিন (২২), নুর উদ্দিন (৩৫)সহ ১৫–১৬ জন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তার মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যায়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, “আমরা অফিসে বসে নির্বাচনী আলোচনা করছিলাম। এ সময় মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সে চলে যায়। পরে শুনেছি, কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে গেছে। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত এনামুল হক মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ বাচ্চুর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত মিজানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক
