ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির নেতারা। সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী শহরের জিগাতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ এ অভিযোগ করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পলাশ। তিনি বলেন, জামায়াত একটি ক্যাডার-নির্ভর ও সন্ত্রাসীধারার সংগঠন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির আশঙ্কায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল বিএনপির ৩৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
পলাশ দাবি করেন, ঘটনার সময় রফিকুল ইসলাম নয়নসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না। বরং সংঘর্ষের সময় জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের সঙ্গে থাকা তুষার মন্ডল নামে এক যুবক প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে গুলি চালায়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, তুষার মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে আবু তালেবের স্বজন মামুন মন্ডলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করছে এবং নিয়মিতই সশস্ত্র অবস্থায় প্রচারণায় অংশ নেয়।
এসময় উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক পানজুর রহমান সরদার, সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম সরদার, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলুসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বহু নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের পর মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল দাবি করেন, তার দল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন; এখানে সন্ত্রাসীদের কোন জায়গা নেই। তিনি বলেন, তুষার মন্ডলকে তিনি চেনেন না, এবং তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তার প্রচারণার সঙ্গে ওই যুবকের ছবিকে জুড়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ স ম আব্দুন নূর জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্র প্রদর্শনকারী যুবক তুষার মন্ডলের পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি জামায়াতের কর্মী এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

