কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চামটারপাড় এলাকায় মিশ্র কৃষি চাষে সফলতার নজির স্থাপন করেছেন কৃষক শামছুল আলম। মাত্র ২ একর লিজকৃত জমিতে তিনি ও তাঁর দুই ছেলে মামুন ও ওমর ফারুক গড়ে তুলেছেন লাভজনক খামার, যেখানে পেঁপে, কলা ও নানা ধরনের শাকসবজি উৎপাদন হচ্ছে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে তারা ব্যবহার করছেন নিজ হাতে তৈরি ভার্মি কম্পোস্ট।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
খামারে রয়েছে ৪০০ পেঁপে গাছ—যার অর্ধেক নিজের সংগ্রহ এবং বাকিগুলো ২৫ টাকা দরে কেনা। পাশাপাশি চাষ করছেন ৭০০ কলা গাছ, যেগুলোর প্রতিটি থেকেই কাঁদি এসেছে। প্রতিটি কলার কাঁদি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
দৈনিক ৮ থেকে ১০ মণ পেঁপে বিক্রি হচ্ছে তাদের বাগান থেকে। বর্তমানে কাঁচা পেঁপের দাম মণপ্রতি ৮০০ টাকা হলেও কিছুদিন আগে একই পেঁপে ১,২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। পাকা পেঁপে পাইকাররা নিয়ে যাচ্ছেন ১,৬০০ থেকে ২,০০০ টাকায়। পাইকারদের মতে, অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় এই পেঁপের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।
শুধু ফসল নয়, খামারে রয়েছে ১২টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। এর মধ্যে ৪টি গাভী টানা ৭-৮ মাস দুধ দেয়, যা কৃষক পরিবারের আয়কে আরও স্থিতিশীল করছে।
স্থানীয়রা জানান, শামছুল আলমের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই খামার এখন এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “নিরাপদ ফসল উৎপাদনে আমরা তাদের নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। যে কোনো কৃষক চাইলে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে, আমরা তার পাশে আছি।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

