
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী) আসনে ব্যতিক্রমী কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন জাকের পার্টির প্রার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল হাই মাস্টার। এক হাতে হ্যান্ডমাইক, অন্য হাতে পোস্টার নিয়ে এলাকায় এলাকায় হেঁটে বেড়িয়ে রেকর্ড করা বার্তা বাজিয়ে ভোট চাইছেন তিনি। তার এমন সরাসরি ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
গত নির্বাচনে সাইকেলে চড়ে প্রচারণা চালালেও এবার আরও সহজ ও মানবিক উপায়ে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাইছেন এই প্রার্থী। প্রচারণার পাশাপাশি ভোটারদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয়দের মতে, আব্দুল হাই মাস্টার অত্যন্ত সাদাসিধে ও সহজ-সরল মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার জীবনযাত্রায় কখনো বাড়াবাড়ি লক্ষ্য করা যায়নি। বরং রাজনীতিতে দাঁড়াতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এবার এমপি নির্বাচনে অংশ নিতে বসতভিটাও ভাইপোদের কাছে বন্ধক রাখতে হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
অনেক ভোটার মনে করেন, প্রতি নির্বাচনে ভালো ভোট পেলেও কারচুপির কারণে তিনি পরাজিত হন। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবারের ফলাফল তার পক্ষে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
প্রচারণা প্রসঙ্গে আব্দুল হাই মাস্টার বলেন, “গত এক বছর ধরে মাঠে আছি। ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে আমার কাছে সমস্যা নিয়ে আসত। এবারও সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। এজন্যই ভোট চাইছি। প্রচারণায় গিয়ে যেখানে রাত হয়, সেখানেই কোনো বাড়িতে খাবার খেয়ে রাত কাটাই।”
তিনি নির্বাচিত হলে নারীর উন্নয়ন, গ্যাসলাইন সম্প্রসারণ, কলকারখানা স্থাপন, কচাকাটা থানাকে উপজেলা করা, চরের নদী শাসনে চাইনিজ পদ্ধতি প্রয়োগ, দুধ-মাংস রপ্তানিমুখী পশুপালন ব্যবস্থা তৈরি এবং অসহায় মানুষের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার ছেলে বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।
কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ১৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৯ জন, নারী দুই লাখ ৭৬ হাজার ৭৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিনজন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
