নাগেশ্বরীতে এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলায় ঘুষের বিনিময়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে নাগেশ্বরী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শিমুল সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমান গনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমান গনির জ্যেষ্ঠ ছেলে মো. মফিজুল ইসলাম আস্করনগর মৌজায় ৪৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আতাউর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা দিলরুবা আদালতে একটি মামলা (সি.আর-১৬৪/২০২৬) দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই শিমুল সরকারের ওপর।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথ অনুসন্ধান ও তথ্য-যাচাই না করেই গত ১৪ এপ্রিল বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঘুষের বিনিময়ে আদালতে একটি মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ মার্চ মো. মফিজুল ইসলাম ও তার বাবা মো. ওসমান গনি লাঠি, দা ও কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির ফসল নষ্ট করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, ওই সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি ও তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমান গনি বলেন, “আমি ৮৩ বছর বয়সী একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ঘুষের বিনিময়ে তার পেশাগত নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছেন। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি করছি।”

ভুক্তভোগী মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, “টাকার বিনিময়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল আলিমও অভিযোগ করে বলেন, “ওসমান গনি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শিমুল সরকার বলেন, “আমি আদালতের নির্দেশনা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।”

নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here