রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন

কটিয়াদীতে জমি নিয়ে বিরোধ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. নুরুজ্জামান দেওয়ানের বাড়িঘর ভাঙচুর ও আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নুরুজ্জামান দেওয়ান বাদী হয়ে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সহশ্রাম পশ্চিম গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন নুরুজ্জামান দেওয়ানের সহোদর আসাদুজ্জামান রতন (৪৫), মনিরুজ্জামান (৩৫), শামসুজ্জামান ফুরকান (৫৭), সুরুজ্জামান সুলতান (৫৩), আঁখি আক্তার (৩৫) ও নাজমুন্নাহার লাভলী (২৮)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুরুজ্জামান দেওয়ান ও তাঁর ভাই-বোনদের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে শুক্রবার সকালে নুরুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত কাজে কিশোরগঞ্জে অবস্থান করার সুযোগে আসাদুজ্জামান রতনসহ অন্যরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর ও ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে প্রায় ১২ লাখ ২৬ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন নুরুজ্জামান।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়দের সামনে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগও করেছেন নুরুজ্জামান। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলে জানান।

ভুক্তভোগী মো. নুরুজ্জামান দেওয়ান বলেন, “আমার তিন বোন তাঁদের ওয়ারিশি সম্পত্তি আমাকে হেবা রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। ২০১৯ সাল থেকে আমি ওই জমির খাজনা-খারিজ করে দখলে আছি। এখন জমি বিক্রি করতে গেলে আমার চার ভাই আমাকে দখল দিতে চাচ্ছেন না এবং খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছেন। আমি বর্তমানে বাড়িছাড়া। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে গেলে তাঁদের সামনেই আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামানের ভাই আসাদুজ্জামান রতন বলেন, “আমার মা টিপসই দিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তি আমার বড় ভাইয়ের কাছে দিয়েছেন। তিনি অন্য একজনের কাছে জমি বিক্রি করেছেন, যা আমরা জানি না। পরে জানতে পারি, বোনেরা নাকি তাঁকে ওই জমি হেবা দলিল করে দিয়েছেন। এ বিষয় নিয়েই তাঁর সঙ্গে আমাদের বিরোধ।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভাই-বোনদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িঘর ভাঙচুরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর