কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
লালমনিরহাটের তিস্তা সড়ক সেতুর টোল প্লাজায় অতিরিক্ত টোল আদায়কে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, হামলা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেলহাজতে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল মজিদ (৫৮) ও তার ছেলে মোঃ সিহাব আহমেদ তিতিল (২৫)। মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিনাজপুরে ফিল্ড ট্রিপ শেষে দুটি বাসে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। বাসে ৫৪ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। পথে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুণ্ডা এলাকার তিস্তা সেতুর টোল প্লাজায় অতিরিক্ত টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বাসচালক ও টোল আদায়কারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এ আর এম মাহবুবার রহমান অভিযোগ করেন, টোল পরিশোধ করার পরও টোল প্লাজার কর্মীরা বাসের চালক ও হেলপারকে গালাগালি ও হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের গাড়ি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, পরে টোল প্লাজার কয়েকজন কর্মী লাঠি-খড়ি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। মামলার বাদী সদর থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় টোল প্লাজার কয়েকজন কর্মী পুলিশ সদস্যদের গালাগালি ও হুমকি দেন। তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর চড়াও হন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেন। এ সময় এক এএসআইসহ দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এ আর এম মাহবুবার রহমান বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে সদর থানায় একটি মামলা করেন। এতে তিস্তা টোল প্লাজার অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের ওপর হামলা, গালাগালি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন এসআই এনামুল হক। ওই মামলায় টোল প্লাজার দুই কর্মচারীসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ সাদেকুজ্জামান লিমন বলেন, “আহত শিক্ষার্থীরা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক লালমনিরহাট থানায় অবস্থান করছেন।”
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম ও শিক্ষকরা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন।”
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাদ আহমেদ বলেন, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

