কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মধ্যে বসতঘর সরানোর সময় ভাঙনের দৃশ্য দেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল সালাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের ছেলে মিজান ইসলাম বলেন, “নদী আমাদের ভিটেমাটি নিয়ে গেছে। ঘর সরানোর সময় বাবা নদীর ভাঙন দেখে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।”
সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম তীরের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী অব্যাহতভাবে তীর গিলে খাচ্ছে। বসতবাড়ি, গাছপালা এবং বিস্তীর্ণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বাদাম, আমনের বীজতলা, মরিচ, শাকসবজি, পাট ও ভুট্টার ক্ষেতও ভাঙনের কবলে পড়েছে।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁ, চর চতুরা, চর রামহরি এবং ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর খিতাবখাঁ ও চর গতিয়াসাম এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত চার দিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে মমিনুল ইসলাম, আব্দুল সালাম, কাফি হোসেন, জয়নাল ইসলাম, ফকরুল ইসলাম ও আব্দুর সাত্তারের বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নদীতে তলিয়ে গেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
চর তৈয়বখাঁ গ্রামের ফকরুল ইসলাম বলেন, “এই নিয়ে তিনবার বাড়ি সরালাম। এখন আমার থাকার মতো কোনো জমিই নেই।”
চর বিদ্যানন্দ গ্রামের মমিনুল ইসলাম জানান, ভাঙন পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি মসজিদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয় ও ধর্মীয় স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীতীর রক্ষায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে দুই লাখ জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলে কাজের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় সেখানে এখনো প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. আতিক মোজাহিদ বলেন, ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

