ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টারের বিরুদ্ধে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই দলিল সম্পাদন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং জাল বা ভুয়া নথি ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিয়মিত সাব-রেজিস্টার একেএম সুজাউদ্দিন প্রশিক্ষণে থাকায় নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাসুমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে তিনি মোট ১ হাজার ৩৬৪টি দলিল নিবন্ধন করেছেন বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে আটকে থাকা বহু দলিলও এ সময় নিবন্ধন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। সরকারি খাসজমি, ভুয়া ভূমি উন্নয়ন করের কাগজ এবং জাল নথি ব্যবহার করে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগও সামনে এসেছে।
বিশেষ করে ৯ জুন একদিনে প্রায় ৩৯০টি দলিল সম্পাদনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এত অল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক দলিলের নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা বাস্তবসম্মত নয়। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন রাত পর্যন্ত দলিল নিবন্ধনের কার্যক্রম চলেছে।
কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু দলিলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় শতাধিক ব্যক্তি ৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টারকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক সতর্কতার পরও নিবন্ধন কার্যক্রম রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, অতিরিক্ত সংখ্যক দলিল জমা পড়েছিল। কোনো নির্দিষ্ট দলিল নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দলিল বাতিলের উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি তার কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দলিল নিবন্ধনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় সরাসরি প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি সূত্র দাবি করেছে, বিপুলসংখ্যক দলিল নিবন্ধন হলেও সংশ্লিষ্ট জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় ভূমি জালিয়াতি ও সরকারি সম্পত্তি নিয়ে অনিয়মের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

