জন্মদাত্রী মায়ের জমি ও ভাই-বোনদের হক খেকো আব্দুল হকের জালিয়াতি ফাঁস: তদন্ত শুরু হতেই মাদ্রাসার মালামাল ফেরত

0
165
পিরোজপুরের পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ‘পকেট কমিটি’ ও নিয়োগ বাণিজ্যের হিড়িক / ছবি - এই বাংলা

পিরোজপুর প্রতিনিধি :


পিরোজপুরের পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল হকের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ, মাদ্রাসার সরকারি সম্পদ লুটপাট এবং ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হকের বিরুদ্ধে নিজের ৯৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা ও ছয় ভাই-বোনকে প্রতারণার মাধ্যমে পৈতৃক জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এভাবে উত্তরাধিকার থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বঞ্চিত করা সামাজিক ও নৈতিকভাবে চরম অনিয়মের দৃষ্টান্ত।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটিতে গত প্রায় ২৫ বছর ধরে কোনো নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম নেই। তবুও প্রতি বছর সরকারি পাঠ্যবই উত্তোলন করে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রতিবছর পাঁচজন শিক্ষার্থীকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখিয়ে সরকারি দপ্তরে তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অর্থের বিনিময়ে নিজের পছন্দমতো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকার বাইরের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি তথাকথিত ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে মাদ্রাসাটি ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিযোগগুলো উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের নির্দেশের পর মাদ্রাসা থেকে পূর্বে সরিয়ে নেওয়া দুটি স্টিলের আলমারিসহ কিছু মালামাল পুনরায় মাদ্রাসায় ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত শুরুর আগেই গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপন বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।

ইউএনওর দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে কদমতলা এলাকার সর্বস্তরের মানুষ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার সব নথিপত্র প্রশাসনের হেফাজতে নিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক, যাতে প্রমাণ নষ্ট করার সুযোগ না থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, “প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here