চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ৩য় দফায় ধস: আতঙ্কে এলাকাবাসী, নদীভাঙন ও বন্যার চরম ঝুঁকি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও নতুন করে ধস দেখা দিয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে উপজেলার কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের ৩০ মিটার অংশে এ নতুন ধস শুরু হয়। নদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হওয়ায় চলতি বন্যা মৌসুমে পুরো বাঁধ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

এর আগে চলতি মাসের ১ ও ১৬ জুলাই পর পর দুই দফায় একই বাঁধে ধস দেখা দিয়েছিল। পাউবো বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি মেরামতের কাজ শেষ করার আগেই কিছুটা ভাটিতে এ তৃতীয় দফার ভাঙন শুরু হলো। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সোমবার রাতেই মাইকিং করে স্থানীয়দের ডেকে এনে তড়িঘড়ি জিও ব্যাগ ফেলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকাল থেকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আনুষ্ঠানিকভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ শুরু করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে তিন দফায় বাঁধটির মোট ৯০ মিটার অংশ ধসে গেছে এবং ভাটির আরও প্রায় ৩০০ মিটার অংশ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০১৬ সালে নির্মিত এ বাঁধটির নকশাগত ও কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ব্লকের ঘনত্ব কম থাকায় প্রতিনিয়ত এই সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। আপাতত সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ১৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার অনুমোদন পাওয়া গেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল বালুর বস্তা দিয়ে এই ভাঙন ও ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। রফিকুল ইসলাম ও নুরজাহান বেগমের মতো স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পাউবোর পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী টেকসই সমাধান না করায় প্রতিবছরই এই আতঙ্কের মুখে পড়তে হয়। দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বাঁধ ভেঙে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, শত শত হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত হয়ে আমনসহ কৃষিখাতে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, মূল নকশার সীমাবদ্ধতার কারণেই বারবার এমনটা ঘটছে। বর্তমানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প উপায় নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অ্যাসেসমেন্ট করে প্রয়োজনীয় বাড়তি বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। তবে পানির প্রবল চাপ সত্ত্বেও বাঁধটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা কম বলে তিনি দাবি করেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here