বেতাগীতে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দোকান পজিশন দখল ও হুমকির অভিযোগ, থানায় এজাহার

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি :

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৫ নম্বর বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গোলাম রবের বিরুদ্ধে প্রতারণা, দোকান ঘরের পজিশন আত্মসাৎ এবং জীবনের নিরাপত্তার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. আব্দুর রহিম মীর সুবিচার চেয়ে বেতাগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে কাজিরহাট বাজারের দক্ষিণ দিকে মহাসড়ক সংলগ্ন একটি দোকানের পজিশন কেনার লক্ষ্যে মো. গোলাম রবের সঙ্গে সরকারি স্ট্যাম্পে একটি বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন আব্দুর রহিম মীর। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ধার্যকৃত সম্পূর্ণ অর্থও তিনি পরিশোধ করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, অর্থ পরিশোধের পর তিনি দীর্ঘদিন দোকানটি দখলে রাখলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোলাম রব জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি করে দিতে টালবাহানা করেন। পরবর্তীতে ওই স্থানে থাকা পুরোনো কাঠের ঘরটি ভেঙে পড়লে সেখানে নতুন করে দোকান তোলার চেষ্টা করা হলে সাবেক চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বজনরা বাঁধা সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি; উল্টো প্রতিপক্ষের লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত ও হুমকির শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কান্নাকণ্ঠ ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম মীর বলেন, “জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে এই পজিশনটি কিনেছিলাম। এতদিনেও নিজের পাওনা বুঝে পাইনি, এখন উল্টো ঘর তুলতে গেলে আমাকে ও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”

বায়না চুক্তির দুই নম্বর সাক্ষী সাবেক মেম্বার মো. দলিল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাঁর উপস্থিতিতেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। আব্দুর রহিম মীর এতদিন দখলে থাকলেও ঘর পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম রবের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার জানান, অভিযোগপত্রটি হস্তগত হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here