চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় সাড়ে তিন লাখ টাকা বা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের লোভে নার্সারি পড়ুয়া শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে (৭) অপহরণের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ ও ডিবি টিমের যৌথ ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহৃত শিশুটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে জব্দ করা হয়েছে অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশাটিও।
গতকাল মঙ্গলবার থেকে পরিচালিত দিন-রাতব্যাপী বিশেষ অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এই সাফল্য অর্জন করে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০ জুলাই সকালে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সরফভাটা এলাকার একটি স্থানীয় স্কুলের নার্সারি শ্রেণিতে পড়তে যায় ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। ছুটি হওয়ার পরও বাড়ি না ফেরায় চিন্তিত স্বজনেরা সন্ধান করতে থাকেন। পরবর্তীতে এক সহপাঠীর কাছ থেকে জানা যায়, এক সিএনজিচালক তাকে বলে যে, “তোমার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তোমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে।” এই কৌশলে অবুঝ শিশুটিকে গাড়িতে তুলে চম্পট দেয় অপরাধীরা।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম (বিপিএম)-এর নির্দেশনা ও রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (পিপিএম)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের একাধিক টিম। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে মূল আসামিদের ধরে ফেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোঃ ফয়সাল (৩২), মোঃ রাকিব (২২) এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।
প্রাথমিক জেরায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মূল পরিকল্পনাকারী ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার আপন মামাতো ভাই! পারিবারিকভাবে চেনা-জানার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ও মুক্তিপণের টাকা ভাগ-বাটোয়ারার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচিত সিএনজিচালকদের এ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। শিশু অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

