
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় প্রশাসনের অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও অবকাঠামোর অংশ ভেঙে দেওয়ার পরদিনই আবারও চালু হয়েছে একটি অবৈধ ইটভাটা। এ ঘটনায় প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ী হাট এলাকার ‘মেসার্স ওয়ারেছ ব্রিকস’ নামের ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বায়ুদূষণ ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভাটার মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি স্কেভেটর দিয়ে ভাটার কিছু অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রীমা আক্তার। এ সময় প্রসিকিউটর হিসেবে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিমসহ জেলা পুলিশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পরদিন বুধবার থেকেই আবারও ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আলামিন মিয়া, মোঃ জলিল মিয়া ও মোঃ সাহেব আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের অভিযানটি ছিল ‘দায়সারা’। পুরো অবকাঠামো ভেঙে না দিয়ে নামমাত্র অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, ফলে ভাটাটি সহজেই আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ বিষয়ে জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রীমা আক্তারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে ‘ওয়ারেছ ব্রিকস’-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আবু ওয়ারেছ ভাটাটি পুনরায় চালুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “ওই ইটভাটার মালিক আদালতের একটি অনুমতিপত্র দেখিয়েছেন। তবে আমরা এখনো সেই অনুমতিপত্রের কপি হাতে পাইনি বা যাচাই করে দেখা হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় মোট পাঁচটি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সাফফাত ব্রিকস পরিবেশগত ছাড়পত্র পেয়েছে। হাসান ব্রিকস অনুমোদন না থাকায় বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে মেসার্স এনএস ব্রিকস, মেসার্স ওয়ারেছ ব্রিকস ও এসটি ব্রিকস অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
