চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক বাল্লা রেলপথ একসময় এ অঞ্চলের চা-শিল্প ও জনজীবনের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল। তবে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেলপথ এখন বিলুপ্তির পথে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে ১৯২৮-২৯ সালে চুনারুঘাট থেকে সীমান্তবর্তী বাল্লা পর্যন্ত রেলপথটি নির্মিত হয়। এ রুটে চুনারুঘাট জংশনসহ হবিগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ কোর্ট, ধুলিয়াখাল, পাইকপাড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, বারকোটা, সুতাং বাজার, চুনারুঘাট, আমুরোড, আসামপাড়া ও বাল্লাসহ কয়েকটি স্টেশন ছিল।
চুনারুঘাট উপজেলার অন্তত ২২টি চা-বাগানের উৎপাদিত চা পরিবহন, শ্রমিকদের রেশন ও জ্বালানি সরবরাহে ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন ছিল সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বাহন। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে শরণার্থী প্রত্যাবর্তন এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগেও এ ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে কয়লাচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন করা হয় এবং দিনে দুইবার ট্রেন চলাচল করত।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধীরে ধীরে রেলপথটির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন, লোকসান এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্রেনের গতি ঘণ্টায় মাত্র ১৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ১৯৮০-এর দশকে প্রথমবার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে কয়েক দফা সীমিত আকারে চালু হলেও ১৯৯১ সালে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুদিন চলার পর ২০০২-০৩ সাল থেকে রুটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেলপথের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট হয়েছে, রেলের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা এবং কিছু রেলকর্মচারীর বিরুদ্ধেও রেলের জমি ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার রেলপথটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এ রেলপথ পুনরায় চালু হলে চা-শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সল বলেন, “বাল্লা লোকাল ট্রেন এখন আমাদের কাছে শুধু স্মৃতি। এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং রেলপথটি পুনরায় সচল করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

