গৃহহীন শহিদুলের পরিবার রাত কাটছে খোলা আকাশের নিচে

0
256
আশ্রয়ণের ঘর পেলে মিলবে শান্তি / ছবি - এই বাংলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ছাট গোপালপুর গ্রামের গৃহহীন শহিদুল ইসলাম এখন পরিবারের সঙ্গে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করছেন। দুই শিশু সন্তান, অসুস্থ বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীকে নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটছে তার।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

একসময় শিলখুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চুক্তিভিত্তিক ঝাড়ুদারের কাজ করতেন শহিদুল। অন্যের জমিতে ছোট একটি ঝুপড়িঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন ঢাকায় থাকার পর ফিরে এসে দেখেন, জমির মালিক তার ঘরটি ভেঙে অন্য কাজে ব্যবহার করছেন। তখন থেকেই তিনি গৃহহীন হয়ে পড়েন।

গত ১১ মাস ধরে বিভিন্ন দোকানের বারান্দা ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাত কাটাচ্ছেন শহিদুলের পরিবার। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা, কিন্তু সেখান থেকেও সড়িয়ে দেওয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে খোলা আকাশের নিচে দুই শিশু সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাত কাটানোর উদ্যোগ নেন শহিদুল। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সহানুভূতির সঞ্চার হয়।

শহিদুলের মা ছকিনা বেওয়া (৬২) কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “বাবাগো, আমাগো বাড়িঘর নাই। অনেক দিন ধইরা দুইটা ছোট পোনাই নিয়া বারান্দায় থাকতাছি। এই ঠান্ডার রাইতে আমরা কই যামু?”

শহিদুল ইসলাম জানান, “নিজের জায়গা-জমি না থাকায় কখনও কবরস্থানের পাশে, কখনও ফাঁকা জায়গায় থেকেছি। সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে একটা ঘর পেলে অন্তত শিশু দুইটা শান্তিতে ঘুমাতে পারত।”

শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “শহিদুল আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘরে থাকতে চাইলে আমরা তাকে একটি ঘর দেব।”

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র জানান, “শহিদুল আশ্রয়ন প্রকল্পে আবেদন করলে ঘর প্রদান করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানবিক আবেদন: গৃহহীন শহিদুলের পরিবারের জন্য দ্রুত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।

এই বাংলা/এমএস
টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here