বরিশাল ব্যুরো :
দেশের রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্বের উপস্থিতি এক ধরণের সতেজতা ও ন্যায়বোধের প্রতীক। এমনই এক তরুণ হলেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার হাড়ীখালী গ্রামের মুন্সি বাড়ির সন্তান শরিফ ওসমান হাদি। বাবার কণ্ঠে কোরআনের তেলাওয়াত শুনে বড় হওয়া এই তরুণ, মাদরাসার শিক্ষাজীবনের শুরু হলেও রাজনীতি, আন্দোলন এবং বিকল্প রাষ্ট্রচিন্তায় পরিণত হন অসংখ্য দেশের ছাত্র ও যুবককে অনুপ্রাণিত করার শক্তিশালী নেতৃত্বে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের সময় থেকেই তিনি অধিকার সচেতন ছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষে রাজনীতিতে প্রবেশ, অধিকার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার হওয়া—এই পথচলায় তিনি কখনো ভয়কে চিন্তাভাবনায় স্থান দিতে দেননি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ন্যায় ও ইনসাফের প্রশ্নে তার জোরালো অবস্থান তা আরও স্পষ্ট করেছিল।
কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশ্য রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা এই তরুণ নেতৃত্বের ওপর হামলা শুধুই একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা—যেখানে মতপ্রকাশ, ন্যায় ও ইনসাফের কণ্ঠরোধের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য গভীরভাবে ভাবার বিষয়: আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতবিরোধের ক্ষেত্রে সহমর্মিতা ও সংলাপের বদলে সহিংসতা ব্যবহৃত হবে?
ওসমান হাদির উদাহরণ আমাদের শেখায় যে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়; এটি সমাজ ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যও। তার শিক্ষাজীবন, সংগঠন এবং বক্তব্যগুলো তরুণ প্রজন্মকে দেখিয়েছে যে সাহস, ন্যায়বোধ ও নৈতিকতা কোনো বয়সের বন্ধন নয়।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই নিন্দনীয় হামলার ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষের নিন্দা ও ক্ষোভ স্বাভাবিক। তবে আমাদের দায়িত্ব কেবল ক্ষোভ প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকা নয়; আমাদেরকে রাজনৈতিক সহমর্মিতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নিরাপদ মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায় ও ইনসাফের প্রশ্নে সক্রিয় থাকা—এটাই হবে এই তরুণের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার প্রকৃত প্রমাণ।
শরিফ ওসমান হাদি যেমন মাদরাসার বারান্দা থেকে রাজপথের পথ অতিক্রম করেছেন, তেমনি তার কণ্ঠও যেন আজ সমাজে ন্যায় ও ইনসাফের চেতনাকে উদ্দীপিত করে। আমরা আশা করি, এই ভয়ঙ্কর ঘটনার মধ্যেও দেশের রাজনীতিতে আলোচনার পরিবেশ, মানবিক সংলাপ ও তরুণ নেতৃত্বের অবদান ক্ষুণ্ণ হবে না।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

