গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ি থানাধীন মিরপুর মৌজা পারিজাত এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির ৫ তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হলেও নির্মাণ কার্যক্রমে একাধিক বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভবনটি অনুমোদিত নকশা ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে এবং চারপাশে অতিরিক্ত নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) রেখে কাজ চালানো হচ্ছে। এছাড়া নিচে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সেফটি নেট ব্যবহার করা হয়নি। আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ডও টানানো হয়নি, যা ইমারত নির্মাণ বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
স্থানীয়রা জানান, ভবন মালিক মোঃ খলিলুর রহমান (পিতা: আজবাহার আলী) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করে এবং বাংলাদেশ জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা (BNBC) লঙ্ঘন করে নির্ধারিত জায়গা না ছেড়ে ভবন নির্মাণ করছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,গাজীপুর উন্নয়ন কতৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি না করায়, মিরপুর মৌজায় একাধিক বাড়ির মালিক নিজের খেয়াল খুশি মতো ভবন নির্মাণ করছে।তবে এ বিষয়ে ভবন মালিক খলিলুর রহমানের বক্তব্য ভিন্ন।
তিনি জানান, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তার জবাবও দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইমারত পরিদর্শক মুরাদ আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় শিগগিরই দ্বিতীয় নোটিশ পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ শুধু নগর পরিকল্পনাকে ব্যাহত করে না, বরং জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। যথাযথ তদারকি ও আইন প্রয়োগ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয় এবং নগর উন্নয়ন কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

