কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের কারণে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও তিস্তা ও ধরলার পানি সতর্কতামূলক অবস্থায় পৌঁছেছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং অন্তত ৩৫টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৬০ মিটার, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪৫ মিটার নিচে রয়েছে। তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি ২৯ দশমিক ৯৩ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৯৪ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ দশমিক ৯৫ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এতে তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি ২৮ দশমিক ৯৭ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি ২৪ দশমিক ৩৯ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা যথাক্রমে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬৬ মিটার ও ১ দশমিক ৪৯ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। তলিয়ে যাচ্ছে চীনাবাদাম, পাট, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে অনেক কৃষক অপরিপক্ব ফসল দ্রুত ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর শঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, দেশের অভ্যন্তর এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী ৩ থেকে ৫ দিন নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করলে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

