কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
অভাব-অনটনের সংসারে ঝালমুড়ি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মো. জয়নাল আবেদীন (৪৪)। কিন্তু দারিদ্র্য তাঁর সততাকে নড়বড়ে করতে পারেনি। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় কুড়িয়ে পাওয়া ৩৭ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কের কর্তিমারী বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে একটি ব্যাগ দেখতে পান জয়নাল আবেদীন। ব্যাগটি খুলে তিনি ভেতরে নগদ ৩৭ হাজার টাকা দেখতে পান। টাকা নিজের কাছে রেখে না দিয়ে তিনি প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. আনিছুর রহমানের সহযোগিতা চান। পরে সংবাদকর্মী বিষয়টি তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই টাকার প্রকৃত মালিকের স্বজনরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি পুরো ৩৭ হাজার টাকা প্রকৃত মালিক মো. আবুল হোসেনের হাতে তুলে দেন।
৯০ বছর বয়সী আবুল হোসেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। টাকা ফিরে পেয়ে তিনি জয়নাল আবেদীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আবুল হোসেন বলেন, “টাকাগুলো হারিয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। জয়নাল আবেদীনের মতো সৎ মানুষ আছেন বলেই আমার কষ্টার্জিত টাকা ফিরে পেয়েছি।”
স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. আনিছুর রহমান বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও জয়নাল আবেদীনের এই সততা সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর মানবিক ও নৈতিক আচরণ এলাকাজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।

