কাঁঠালের বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গাকৃবির গবেষণায় মিলল সরকারি পেটেন্ট

গাজীপুর প্রতিনিধি :

 

এতদিন কাঁঠালের বীজকে মূলত অব্যবহৃত বা বর্জ্য হিসেবেই দেখা হতো। তবে সেই বীজ থেকেই ঘনীভূত খনিজসমৃদ্ধ (মিনারেল কনসেন্ট্রেট) খাদ্য উপাদান তৈরির নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। উদ্ভাবনটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট লাভ করেছে, যা খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেন প্রায় তিন বছরের গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেন। গবেষণাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্র্যান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (GARE) প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) প্রযুক্তিটিকে পেটেন্ট প্রদান করেছে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরুর পর এটি প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টিতে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো কাঁঠালের বীজে থাকা প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান বিশেষ প্রক্রিয়ায় ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশের বেশি খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদানে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। এতে খনিজের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

গবেষকদের মতে, এই মিনারেল কনসেন্ট্রেটে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজসহ মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত উৎপাদন, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাদের ভাষ্য, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত উপাদান বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করে অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কাঁঠালের বীজের মতো কৃষিজ উপজাতকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে খাদ্য অপচয় কমানো, কৃষিজ বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই উদ্ভাবন দেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে শিল্প ও জনকল্যাণে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে।

প্রযুক্তিটির অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, বাণিজ্যিকভাবে প্রযুক্তিটির ব্যবহার শুরু হলে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ৯৭টি উন্নত ফসলের জাত এবং ২১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে, যা দেশের কৃষি ও খাদ্য প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here