কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি খাল পুনর্খননের উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে সুরির ডারা বিল, ভুতানীর বিল ও কারবালার বিলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় শতাধিক কৃষক আবারও আমন আবাদে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
উপজেলার পৌর এলাকার আব্দুল হাকিম মৌজার ডারারপাড় গ্রামের সুরির ডারা বিল থেকে বুড়ি তিস্তা নদীতে সংযুক্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এতে বছরের অধিকাংশ সময় জমি পানির নিচে থাকায় কৃষকরা শুধু সীমিত পরিসরে বোরো আবাদ করতে পারতেন।
সম্প্রতি সরকারের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় প্রায় ৫১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে খালটির পুনর্খনন সম্পন্ন হয়। গত ১০ মে শুরু হওয়া কাজ ৩০ জুন শেষ হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১১৯ জন হতদরিদ্র শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। পাশাপাশি খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খাল পুনর্খননের ফলে এবার জমিতে দীর্ঘদিন পর আমন চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডারারপাড় গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন জানান, বহু বছর ধরে তার জমি জলাবদ্ধ থাকায় আমন আবাদ করা সম্ভব হয়নি। এবার পানি নেমে যাওয়ায় নতুন করে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষক বাদশা মিয়াসহ আরও অনেক কৃষক।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খন্দকার ফিজানুর রহমান বলেন, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। পুনর্খননের ফলে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি কৃষিকাজ ও সেচ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. আরিফ জানান, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলাকার কৃষিজমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতেও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এলাকার কৃষি উৎপাদন আরও সমৃদ্ধ হবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

