নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকরা বোরো ধান রক্ষায় একটি বাঁধ নির্মাণ করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, মেদা বিলের পানি দত্তখিলা খাল দিয়ে ঢুকে পড়লে সেখানে চাষ করা বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এই বাঁধের কারণেই বিপাকে পড়ে পোগলা ইউনিয়নের কৃষকরা।
বাঁধের ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে না পারায় পোগলা ইউনিয়নের কান্দুলিয়া বিল ও মেদা বিলের প্রায় ৯০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পানি নিষ্কাশনের দাবিতে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল।
রোববার বিকেলে পোগলা ইউনিয়নের কিছু কৃষক মেদা বিলের পানি নামানোর জন্য বাঁধের একটি অংশ কেটে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বড়খাপন ইউনিয়নের লোকজন মাইকিং করে দলবদ্ধ হয়ে পাল্টা হামলা চালায়। এতেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— ইসরাফিল (২৬), হেলাল শেখ (৬৫), মো. ইলিয়াস (৩৫), মুহাম্মদ (৪৫), মো. আনিস (২২), রুবেল (৩০), জুয়েল (২৫), রব মিয়া (৪২), আজাহারুল ইসলাম (২৬), মাসুদ (৪০), জামাল (৪০), আ. কাইয়ুম (৩৫), হাক্কুল (৩২) ও তফিকুল ইসলাম (২৫) সহ অন্তত ২০ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৫-৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
পোগলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের এলাকার মেদা বিলের প্রায় ৯০০ একর ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা বারবার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।
বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের জন্য আংশিক বাঁধ কেটে দেন। এরপরই বড়খাপন ইউনিয়নের লোকজন মাইকিং করে দলবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।অন্যদিকে বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলছি যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। দুই ইউনিয়নের কৃষকদের স্বার্থই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পানি নিষ্কাশন ও ফসল রক্ষা— দুটোই নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ও টেকসই সমাধান বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই দুই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের নিয়ে বসে স্থায়ী সমাধান করা হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বছরই পানি নিষ্কাশন নিয়ে এই দুই ইউনিয়নে সমস্যা হয়। কিন্তু এবারই প্রথম তা সংঘর্ষে রূপ নিল। স্থায়ী সমাধান না হলে সামনে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

