ঐতিহাসিক কামালপুর দুর্গের পতন দিবস পালন: বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

0
136
ঐতিহাসিক ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস পালিত / ছবি - এই বাংলা

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধ ও ধারাবাহিক লড়াইয়ের মুখে পাক হানাদার বাহিনীর শক্তিশালী কামালপুর দুর্গের পতন ঘটে। এ উপলক্ষে শনিবার (আজ) স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নানান কর্মসূচি পালন করা হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর ভারতের তুরা জেলার মহেন্দ্রগঞ্জ সীমান্তবর্তী ধানুয়া কামালপুরে পাকিস্তানি বাহিনী শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করে। এখান থেকে তারা মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালনা করত নৃশংস হামলা। উত্তর রণাঙ্গনের ১১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল এই দুর্গ দখল করা। আট দফা সম্মুখযুদ্ধের মধ্য দিয়ে রণাঙ্গনটি পরিণত হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ এলাকায়।

৩১ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত এ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন জেড ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান। একই দিনে পাক বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমতাজ বীর উত্তম। তাঁর মৃত্যুর পর সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের নতুন কৌশল গ্রহণ করেন। ২৪ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা কামালপুর ঘাঁটি অবরোধ করলে প্রথম দিনের লড়াইয়েই মেজর তাহের গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারান। এরপরও তাঁর নির্দেশনায় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযান চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান বীরপ্রতীক ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব নেন।

টানা ১০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা বশির আহমেদ বীরপ্রতীক জীবনবাজি রেখে হানাদার ক্যাম্পে সারেন্ডার পত্র পৌঁছে দেন। দিনব্যাপী আলোচনার পর সন্ধ্যা ৭টায় ৩১ ব্যালুচ রেজিমেন্টের গ্যারিসন কমান্ডার আহসান মালিকসহ ১৬২ জন পাকিস্তানি সৈন্য মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

এর মধ্য দিয়ে শত্রুমুক্ত হয় ধানুয়া কামালপুর—মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিভীষিকাময় এই রণাঙ্গন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here