নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :
পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লী। কামারপল্লীতে ঢুকলেই কানে আসে টুংটাং শব্দ—হাতুড়ি ও লোহা পেটানোর আওয়াজে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
বছরের বেশিরভাগ সময় তুলনামূলক অলস সময় কাটালেও, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন কয়েকগুণ বেড়েছে কামারদের ব্যস্ততা।
কামারপল্লীর বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কামাররা ঘাম ঝরিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, চাপাতিসহ কোরবানির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাটার সরঞ্জাম। এসব সরঞ্জাম কিনতে স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েছে।
মাংস কাটার সরঞ্জাম কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “বাজারে বিভিন্ন ধরনের ছুরি পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো টেকসই না। কামারদের তৈরি লোহার দা-বটি অনেক মজবুত এবং কাজেও ভালো হয়। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
আরেক ক্রেতা রতন মিয়া বলেন, “কোরবানির আর বেশি দিন নেই। তাই আগে থেকেই দা, চাপাতিসহ দরকারি জিনিস কিনে নিচ্ছি। ঈদের সময় প্রচণ্ড ভিড় হয়, তাই সময় বাঁচাতেই আগেভাগে এসেছি।”
এক কামার ব্যবসায়ী জানান, “একটা দা-বটি বানাতে অনেক খরচ হয়, কিন্তু সেই তুলনায় দাম ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এখন বিদেশি দা-বটিও বাজারে এসেছে, যার প্রভাব আমাদের বিক্রিতে পড়েছে। তারপরও ঈদ উপলক্ষে কিছুটা বিক্রি বেড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও কৃষি যন্ত্রপাতি আধুনিক হওয়ায় আমাদের পণ্যের চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে ঘিরে লোহা ও কয়লার দাম বেড়ে যায়। খরচ বাড়লেও আমাদের আয় তেমন বাড়েনি।”
তবে ঈদুল আজহাকে ঘিরেই এখনো কিছুটা প্রাণ ফিরে পায় এই প্রাচীন পেশা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসা কামারশিল্প কোরবানির মৌসুমে আবারও ব্যস্ত হয়ে ওঠে।

