শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আরএমওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের ব্যাখ্যা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে এবং একাধিক রোগী, হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী সপ্তাহের অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি সাধারণত সপ্তাহের একটি অংশ কুড়িগ্রামে দায়িত্ব পালন করলেও বাকি সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। কুড়িগ্রামে থাকাকালেও সরকারি কর্মঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।

রোগীদের ভাষ্য, জরুরি প্রয়োজনে আরএমওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে অনেক সময় তার কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেককে ফিরে যেতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, আরএমওর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে প্রশাসনিক তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সমন্বয়ের ওপরও পড়ছে বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে, হাসপাতালের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনারও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনিক তদারকি দুর্বল হওয়ায় এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

অন্যদিকে, চলতি বছরের ৯ মে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে যোগদান করা মেডিকেল অফিসার ডা. মো. বায়েজিদ হাসান দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মস্থলে মাত্র একদিন উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে চিকিৎসক সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সচেতন নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার মো. খায়রুল আনম বলেন, সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং সরকারি কর্মঘণ্টায় ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস করা গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী। তিনি বলেন, “সপ্তাহের চারদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। আমি প্রতি শনিবার তত্ত্বাবধায়কের কাছ থেকে লিখিত ছুটি নিয়ে ঢাকায় যাই এবং রোববার সকালে এসে দায়িত্ব পালন করি।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নুর নেওয়াজ বলেন, “আরএমও প্রতি শনিবার ছুটি নেন। তার একটি অটিস্টিক সন্তান রয়েছে, যার কারণে প্রতি সপ্তাহে তাকে ঢাকায় যেতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসকরা এমনিতেই কুড়িগ্রামে থাকতে অনাগ্রহী। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি বদলি নিয়ে চলে যেতে পারেন। এতে জেলার স্বাস্থ্যসেবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর