রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে কাবিখা-টিআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও সদর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ-খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে, আবার কোথাও কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার বা তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে ফুলবাড়ী উপজেলায় কাবিটার ৯৩টি প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া কাবিখার ১৭টি প্রকল্পে মোট ৫৭ মেট্রিক টন গম এবং ৯৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে বড়ভিটা, ভাঙ্গামোড় ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের দাবি, বড়ভিটা ইউনিয়নের একটি কাবিখা প্রকল্পে রাস্তা সংস্কারের জন্য ৮ টন গম বরাদ্দ থাকলেও নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারে বালু এনে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। একইভাবে শাহবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মো. আবুল মালেক অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বিল ছাড় করাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, কমিশন ছাড়া কোনো বিল ছাড় হয় না।

অন্যদিকে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকার সুযোগে তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এদিকে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুটি কাবিখা প্রকল্পে ২৮ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি।

তবে যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সদর উপজেলার পিআইও মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “প্রকল্প পরিদর্শনের পরই চালের ডিও দেওয়া হয়েছে। কাজ হয়েছে, তবে কোথাও কম-বেশি হতে পারে।”

ফুলবাড়ী উপজেলার পিআইও মো. সিরাজুদ্দৌলা বলেন, “চেয়ারম্যান-মেম্বারদের আয়ের একমাত্র উৎস কাবিখা ও টিআর—এমন মন্তব্য প্রসঙ্গক্রমে করে তিনি স্বীকার করেন, কিছু অনিয়ম থাকতে পারে। তবে অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।”

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস এম বেনজির বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি অর্থ ও খাদ্যশস্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই সম্পর্কিত আরো খবর