অনভিজ্ঞ প্রকল্প পরিচালককে বিশ্বব‍্যাংকের প্রত‍্যাখান

আরইউটিডি প্রকল্পে বিশ্বব‍্যাংকের ঋণচুক্তির শর্ত ভঙ্গ: প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা

0
112
এলজিইডি / প্রতিকী লোগো

নাসরিন আক্তার :

 

বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি শর্ত Violation করে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর স্থলে সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সংশিষ্ট প্রকল্প বিষয়ে অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে RUTDP প্রকল্পে নিয়োগ দেয়ায় বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকল্প পরিচালককে প্রত্যাখান করায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা-১, শাখার গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে উপ-সচিব মো. রবিউল স্বাক্ষরীত ইসলাম ৪৬,০০,০০০,০৯৩,১৪০৭৮-২৫-৭১৩ স্মারকের প্রজ্ঞাপনে Supporting Rural Bridge Program (SupeRB) প্রকল্পের সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুখ হোসনকে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তির শর্ত ভঙ্গ (violation) করে নগর উন্নয়নের অভিজ্ঞতাহীন অতি জুনিয়র কর্মকর্তাকে Resilient Urban and Territorial Development Project (RUTDP) এর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়।

 

বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি মোতাবেক বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে পরিচালিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এলজিইডির একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-কে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে মর্মে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চুক্তির তফসিল-২ এর সেকশন-১ উল্লেখ আছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

নং সুত্র জানায় এলজিইডিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কর্মরত থাকা সত্বেও তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) জাবেদ করিম ৫ কোটি টাকা উৎকোষের বিনিময়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নেই মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিগত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়া ও নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনভিজ্ঞ প্রকৌশলী একের ফারুখ হোসেনকে RUTDP প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে প্রেষনে নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব প্রেরন করে।

 

ক্ষেতে তিনি বিশ্বব্যাংকের সাথে ঋণচুক্তির শর্ত ‘ঋণগ্রহীতা একজন প্রকল্প পরিচালক (এলজিইডির একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) নিয়োগ বা মনোনীত করবেন।’ (‘The Recipient shall recruit or designate Director a Project (aSuperintending Engineer of LGED)” তৎকালীণ রুটিন দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের নিকট গোপন রেখে অত্যন্ত চতুরতার সাথে স্থানীয় সরকার বিভাগের কতিপয় দূর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে ফারুখ হোসেনকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগের মূখ্য ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে ফারুখহোসেন এর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যাদি সহ Specimen Signature বিশ্বব্যাংকে প্রেরন করা হলে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক এই নিয়োগ প্রত্যাখান করে অর্থবিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এলজিইডিকে ইতিমধ্যে পত্র দিয়েছে বলে জানা যায়।

 

সদ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ পাওয়া ফারুখ হোসেন বিগত ৩১/১২/১৯৮০ইং তারিখে নাটোর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কুয়েট থেকে পাশ করে বিগত ২৫/০৮/২০০৫ইং তারিখে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে চাকুরীতে যোগদান করেন। তিনি ২অত্যন্ত গরীব ঘরের সন্তান বলে জানা যায়। তিনি বিগত ২০/০২/২০১১ইং তারিখে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং ৩০/১০/২০২৫ইং তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেব পদোন্নতি পান। তিনি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায়, রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলায়, নওগাঁ জেলার সি-ি নয়র সহকারী প্রকৌশলী, গাইবান্ধা জেলার সি-ি নয়র সহকারী প্রকৌশলী এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, তিটি কর্মস্থলে টেন্ডারবাজীসহ বিল থেকে ক্যালকুলেটার দিয়ে কষে টাকা আদায় করার কারনে ঠিকাদারদের সাথে গোল্ডগল হয় এবং সাধারণ লোকজনের সাথে দুর্ব্যবহার করায় কোথাও বেশী দিন চাকুরী করতে পারেনি। বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের দুর্নীতির বিষয়ে সকল তথ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মহসিন ও আলী আকতার জানতেন বিধায় তাকে দীর্ঘ দিন এলজিইডি সদর দপ্তরে কর্মহীন রাখা হয় বলে জানা যায়।

 

ফ্যাসিস্টের দোসর সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ডিও লেটার দিয়ে এলজিইডি’র Supporting Rural Bridge Program এ পদে পোষ্টিং বাগিয়ে নেন। Supporting Rural Bridge Program এ যোগদানের পর তিনি Individual Consultant নিয়োগ দিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা করে আদায় করেছেন। Consulting Firm কে ঘুপছি করে কাজ পাইয়ে দিয়ে প্রতিটি ফার্মের নিকট থেকে ১০ কোটি করে টাকা নিয়েছেন। Supporting Rural Bridge Program এ ৩০০ জন Individual Consultant এবং ১০টি পরমার্শক ফার্ম নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছেন বলে জানা যায়। ঘুষের অর্থ দ্বারা নাটোরে বানিয়েছেন আলিশান বাড়ী, বসুন্ধারায় ৫ কাঠা জমির উপর বানিয়েছেন ৮ তলা ভবন যার ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি টাকা। পূর্বাচলে কিনেছেন ২টি ৫ কাঠা প্লট যার মূল্য ২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক এ নামে বেনামে রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। RUTDP প্রকল্পটি দেশের ৮১ পৌরসভায় এবং ৬টি সিটি করপোরেশনে ২০২৫-২০৩০ যেখানে বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯০১.০০ (পাঁচ হাজার নয়শত এক) কোটি টাকা। এই প্রকল্পটির পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যান্ত জটিল। এখানে নতুন নোডাল সিটি (Nodal) এমনকি যোগ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে গড়িমসি ও ধান্দাবাজির কারণে প্রকল্পে অর্থায়ন ও বন্ধ হওয়ার আশাংকা দেখা দিয়েছে বলে দাতা সংস্থা সূত্রে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে এই বাংলার পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করায় বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রকল্প পরিচালককে প্রত্যাখান করেছে বলে জানা যায়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here