মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান! মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা স্থগিত

0
255
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তার বক্তব্যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান স্থগিত করে / ছবি - এই বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অনুষ্ঠানটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টার দিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “ইতিহাস মোছা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুকেই আমরা জাতির পিতা হিসেবে মানি। সেদিন রণযুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ ছাড়া অন্য কোনো স্লোগান ছিল না। এই বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা থাকবে—জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।”

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া একটি দল ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুবসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির ময়মনসিংহের সংগঠক আল মামুনের নেতৃত্বে প্রতিবাদে অংশ নেন জুলাই যোদ্ধা খাইরুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মুক্তাগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি শাহীনুর আলমসহ অন্তত ১৫–২০ জন। একপর্যায়ে দলটির কয়েকজন মঞ্চে উঠে স্লোগান দিতে থাকলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন বলেন, তিনি তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কথা বলেছেন। বক্তব্য শেষে জুলাই আন্দোলনের কিছু অংশগ্রহণকারী প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন বঙ্গবন্ধুর নাম বলা যাবে না। এতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

অন্যদিকে প্রতিবাদের নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় যুবশক্তির সংগঠক আল মামুন বলেন, অনুষ্ঠানে একজন মুক্তিযোদ্ধা ইচ্ছাকৃতভাবে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘ড. ইউনূস মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন না’—এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করেন। তারা এর প্রতিবাদ করেন। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে এবং কোনো বেয়াদবি করা হয়নি। পরে ইউএনওর কক্ষে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয় বলেও জানান তিনি।

মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় একাংশ আপত্তি তোলে। ছাত্র প্রতিনিধিরাও মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here