চিলমারীতে টিআর–কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বারবার বরাদ্দ আসলেও কাজ নেই মাঠ পর্যায়ে

0
266
কুড়িগ্রামের চিলমারীর একই সড়কের ৫ প্রকল্পের বরাদ্দ এলেও, হয়নি সড়ক / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ দেখিয়ে একই রাস্তার জন্য একাধিকবার প্রকল্প অনুমোদন নেওয়া হলেও কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে। নয়ারহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল সাত্তারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিন অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা-কাবিখা মিলিয়ে ৫টি প্রকল্পে মোট ৭ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই কাগজে–কলমে পরিবর্তন করা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।

ফেইচকার চর এলাকায় রহিমের স’মিল থেকে সাহেব আলীর ভিটা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২০২৩-২৪ অর্থবছর: বরাদ্দ — ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছর: একই রাস্তার নাম বদলে আবার বরাদ্দ — ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এলাকার মন্ডলের দোকান থেকে জাহাঙ্গীরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছর: বরাদ্দ — ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছর: বরাদ্দ — ৫ মেট্রিক টন চাল।

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এসব রাস্তায় বরাদ্দের কোনো দৃশ্যমান কাজ নেই।

মগরাকুরা আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জিয়া, শাহ আলম, সাহেব আলী, আব্দুল আজিজ মোল্লাহ ও জহুরুল ইসলাম জানান— “ইউপি সদস্য আব্দুল সাত্তার একই রাস্তার প্রকল্প বারবার দেখিয়ে সরকারি টাকা তুলেছেন। কিন্তু রাস্তা এখনও ভাঙাচোরা। কাগজে কাজ দেখালেও মাঠে কোনো উন্নয়ন হয়নি।”

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আব্দুল সাত্তার বলেন, “রাস্তাগুলোর কাজ করেছি। স্কুল মাঠ ভরাটে ৩০ ট্রাক মাটি কাটার কথা ছিল, আমি ৫৯ ট্রাক কেটেছি। এতে আমারই ক্ষতি হয়েছে। আমাকে উল্টো কম বিল দেওয়া হয়েছে।”

চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহেল রহমান বলেন, “আমি যোগদানের পর একটি প্রকল্পের কাজ দিয়েছি। সেটির কাজ বুঝে নিয়ে বিল দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চিলমারীতে প্রকল্পের নামে টাকার অপচয় ও অনিয়মের এই অভিযোগ এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here