কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাধার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় নির্মিত সেতুটির কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে। তবে যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকার বিএনপি নেতা শাহাজাহান মণ্ডল ও তাঁর সহযোগীরা সংযোগ সড়কে মাটি ফেলতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, সংযোগ সড়কের নির্ধারিত স্থানে তাদের ব্যক্তিগত জমি রয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ কারণে সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের স্থাপিত গাইডওয়ালের খুঁটি জোরপূর্বক তুলে ফেলা হয়েছে। ফলে অটোচালক, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার মো. সামসুদ্দিন হায়দার জানান, নির্মাণকাজ চলাকালে তাকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের দাবি মেটাতে অর্থ দিতে হয়েছে এবং মালপত্র চুরির ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে সংযোগ সড়কের জন্য মাটি ফেলতে গেলেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. শাহাজাহান মণ্ডল বলেন, সেতু ও সংযোগ সড়কের কারণে তাদের রেকর্ডভুক্ত প্রায় এক বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমির ন্যায্য মূল্য পরিশোধ না করা হলে তারা মাটি ফেলতে দেবেন না বলে জানান। অর্থ লেনদেনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা মই বা অস্থায়ী সিঁড়ি ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
অটোভ্যান চালক নুরুজ্জামান ও বাদশা মিয়া বলেন, সড়ক না থাকায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর্তিমারী জিসি ভায়া বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প সড়কে ৬০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা শেষ হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে।
সেতু নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর জানান, সেতুর পাশে পুরাতন সড়কের লাগোয়া শাহাজাহান মণ্ডলের একটি খাল রয়েছে। কাজ শুরুর সময় খাল ভরাটের দাবি করা হলেও ঠিকাদার তা মেনে নেওয়ার পরও কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. মুনছুরুল হক বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

