
ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক সদ্য প্রয়াত শরীফ ওসমান হাদির নামে। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এই লঞ্চঘাটে স্থাপিত নামফলকে এখন থেকে লেখা থাকবে— ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি’।
শুক্রবার (বিকাল সাড়ে ৪টা) নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চঘাটের নতুন নাম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি শহীদ হাদির বোন মাসুমা হাদিসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল করিম, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জোবায়ের হাবিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জন্মস্থান নলছিটি। তার শৈশব, বেড়ে ওঠা ও জীবনসংগ্রামের সঙ্গে এই লঞ্চঘাট এলাকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণেই নলছিটি লঞ্চ টার্মিনালের নাম তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাদি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও পরিচিত একটি নাম। তার আত্মত্যাগ যুগের পর যুগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, হাদি একটি পরিচ্ছন্ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছিল। সেই স্বপ্নের কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে নিহত হাদিসহ সব শহীদের হত্যার বিচার না হলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে না।
হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়রা জানান, নলছিটি লঞ্চঘাট ছিল হাদির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানেই তার জন্ম, শৈশব ও কৈশোরের বহু স্মৃতি। লঞ্চঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তার পৈতৃক বাড়ি। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানুষের যাতায়াত দেখা, লঞ্চের ভিড়ে সময় কাটানো—এই ঘাট ছিল তার বেড়ে ওঠার নীরব সাক্ষী। আজ সেই ঘাটেই স্থায়ীভাবে যুক্ত হলো শহীদ হাদির নাম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম বলেন, “হাদিকে আমরা ছোটবেলা থেকেই এখানে দেখেছি। সে ছিল আমাদেরই সন্তান। আজ তার নামে লঞ্চঘাটের নামকরণ হওয়ায় আমরা গর্বিত।”
এ সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলানটিয়ার্স অব নলছিটি-এর পক্ষ থেকে নৌ পরিবহন উপদেষ্টার কাছে শহীদ হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে তার মরদেহ দেশে এনে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকটে তাকে দাফন করা হয়।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
