পঞ্চগড়ে অস্তিত্বহীন স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা দেখিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার তৎপরতা, নতুন করে ঘর নির্মাণ

0
160
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অস্তিত্বহীন স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা / ছবি - এই বাংলা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি :


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অস্তিত্ব না থাকা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা সরকারকে দেখাতে নতুন করে চালু করার তৎপরতা বেড়েই চলেছে। উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের সারাপিগছ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, মাদ্রাসাটি মূলত পাশাপাশি গ্রাম কুরানুগছ এলাকায় ছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কসিম উদ্দিন, শরীফ উদ্দিন ও নফিস উদ্দিন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এখন সেই বন্ধ মাদ্রাসাটিকে ভিন্ন স্থানে দেখিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন তেঁতুলিয়া উপজেলার দুটি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও অনুদানভুক্ত দেখানো নিয়ে জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে দেখা যায়, ওই দুই মাদ্রাসার কোনো স্থাপনা, কার্যক্রম বা অস্তিত্ব নেই।

অস্তিত্বহীন মাদ্রাসা দুটি হলো—
১) বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা
২) ভজনপুর ইউনিয়নের নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা

তদন্তে অস্তিত্ব না পাওয়ার পরও নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি আবারো চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সারাপিগছ গ্রামে লুৎফর রহমানের জমিতে বারান্দাসহ চার চালা একটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি মূলত শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য ও সরকারি সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।

সারাপিগছ গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, তিনি নিজের জমিতে মাদ্রাসাটি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং পহেলা জানুয়ারি থেকে এটি চালু করবেন। শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকারি ভাবে চারজন শিক্ষক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রায় বিশ বছর আগে কুরানুগছ মসজিদের পাশে টিনের ঘরে মাদ্রাসাটি চলতো, পরে বন্ধ হয়ে যায়। কাগজে-কলমে মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকায় তিনি নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে তথাকথিত শিক্ষক সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ২০২৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। তবে জুন মাসে তদন্তে মাদ্রাসার অস্তিত্ব না পাওয়ার পর তিনি কীভাবে শিক্ষক হলেন—এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অপর শিক্ষক একরামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন এবং আর সাড়া দেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, নাজির উদ্দিন আঃ স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসায় নতুন করে ঘর নির্মাণের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ডেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তদন্তে অস্তিত্বহীন প্রমাণিত মাদ্রাসা পুনরায় চালুর অপচেষ্টা বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার না ঘটে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here