
ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের চলমান কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচির মধ্যেও অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা কর্মসূচি পালন করলেও রাজাপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের নেতৃত্বে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরীক্ষার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আন্দোলনের মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ায় অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে এটিকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন; আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এ পরিস্থিতি শিশুদের মানসিক চাপে ফেলতে পারে।
পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, “আন্দোলন চললেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রথম বিবেচনা। পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ন্যূনতম শিক্ষকশক্তি ও প্রশাসনের সহায়তায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমরা পরীক্ষা পরিচালনা করেছি।”
ইউএনও রিফাত আরা মৌরি বলেন, “শিশুদের শিক্ষাজীবন থেমে থাকা উচিত নয়। এখানে এসে দেখি শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, নিয়োগবিধি বাস্তবায়নের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। দাবি পূরণের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া তারা নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন না বলে জানান। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলেও মন্তব্য করেন।
শিক্ষক আন্দোলন ও পরীক্ষা—দুই বিপরীত পরিস্থিতির কারণে ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক
