নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি :
শীতের ভরা মৌসুম, মাঠে বাম্পার ফলন—তারপরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় সবজির দাম আকাশছোঁয়া। দুই থেকে তিন গুণ দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, বিশেষ করে নিম্নমধ্যবিত্ত ও দিনমজুর পরিবারের।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে ৮০ থেকে ১২০ টাকার নিচে কোনো সবজিই মিলছে না। কাঁচা মরিচের দাম কেজি ২০০ টাকায় পৌঁছে গেছে, আবার সরবরাহ সংকটে অনেক সময় পাওয়া যাচ্ছে না।
একজন ক্রেতা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন— “১ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে ঢুকলে মাত্র কয়েক রকম সবজি কিনতেই পকেট ফাঁকা। মাছ-মাংস তো এখন আমাদের নাগালের বাইরেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পরিবর্তন হলেও এখনো বাজারে ‘কালোবাজারি সিন্ডিকেট’ সক্রিয় রয়েছে। বাজার মনিটরিং না থাকায় ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
বাজারে সবজির দাম – বেগুন: ৮০–১০০ টাকা, ফুলকপি: ৭০–৯০ টাকা, পালংশাক: ৬০–৮০ টাকা, ঢেঁড়স: ৮০ টাকা, লালশাক: ৫০–৬০ টাকা, কাঁচামরিচ: ২০০ টাকা, বরবটি: ৮০–১০০ টাকা, গাজর: ৯০ টাকা, সিম: ১০০–১২০ টাকা, টমেটো: ১০০–১২০ টাকা, লাউ/চালকুমড়া: ৭০–৯০ টাকা, পুঁইশাক: ৩০–৪০ টাকা (আটি হিসেবে)
এ ছাড়া পেঁয়াজের দাম ১০০–১৩০ টাকা, রসুন ২০০–২২০ টাকা, আদা ১২০–১৫০ টাকা, ছোলা ১৪০ টাকা, মুগডাল ১৮০ টাকা—সব মিলিয়ে ভোক্তারা দিশেহারা।
মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা ফুলকপির মতো সবজি প্রতি পিস মাত্র ৩০–৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন, যা বাজারে এসে দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকেরা লোকসানে, আর ভোক্তারা সর্বোচ্চ দামে কিনতে বাধ্য—এ যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের রাজত্ব।
বিক্রেতারা দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেশের পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়া দেখালেও ক্রেতাদের মতে, এটি ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’। ব্যবসায়ীরা বলছেন— “প্রতিদিনই শাকসবজির দাম বাড়ছে। আমাদেরও দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।”
সোনালি মুরগি: ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি: ১৮০ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি): ১২০–১৩০ টাকা, পেঁয়াজ (আমদানি): ১১৫ টাকা
ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও প্রশাসনের সক্রিয় মনিটরিং থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
তাদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ছাত্র জনতার একত্রিত হয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, নয়তো সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
অভাব, দুঃখ, দুর্দশা এখন নাসিরনগরের বহু পরিবারের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

