কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক তিন অধ্যক্ষ—রীতা রানী দেব, এস. এম. সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগবিধি ভঙ্গ, আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, জাল সনদ ব্যবহারসহ নানামুখী অভিযোগের ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
২৩ নভেম্বর ঢাকার শিক্ষা ভবনে অনুষ্ঠিত তদন্ত সভায় অভিযোগকারী ও প্রতিষ্ঠানের সাবেক সহ–সভাপতি লুৎফর রহমান লিখিত অভিযোগ, বিভিন্ন নথি ও আর্থিক তথ্য উপস্থাপন করেন। অধিদপ্তর অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
হলফনামা ও চাকরির অভিজ্ঞতা–সংক্রান্ত অসামঞ্জস্য – অভিযোগে বলা হয়, রীতা রানী দেব ১৯৯৮ সালে প্রভাষক পদে যোগদানের সময় হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন যে এটিই তার প্রথম চাকরি। তবে পরে অধ্যক্ষ পদে আবেদন করার সময় তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা দেখান, যা পূর্বের হলফনামার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিধিবহির্ভূতভাবে ২৮ জনকে নিয়োগের অভিযোগ – অভিযোগ অনুযায়ী ২৫ জন শিক্ষক ও কর্মচারীকে নিয়োগে ডোনেশনের নামে অর্থ গ্রহণ, এসব লেনদেনের সরকারি রসিদ না থাকা, নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র উপস্থাপন না করা—এসবই নিয়োগবিধি লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত।
একজন নিয়োগপ্রার্থী এফিডেভিটে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যার কপিও তদন্ত কমিটিতে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ (টিআর/কাবিখা, জেলা পরিষদ, নির্মাণকাজ) ব্যবহারে অসামঞ্জস্য, ভর্তি ফি, টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না করা এবং বিভিন্ন ভাউচারে অসঙ্গতি তদন্তের জন্য নথিভুক্ত হয়েছে।
২০১৬ সালের অডিট প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের আয় অস্বাভাবিক হারে বেশি দেখানোর বিষয়টিও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
স্বজনপ্রীতি ও জাল সনদের অভিযোগ – অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পাশাপাশি পাঁচজন শিক্ষক NTRC–এর জাল সনদ জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, রীতা রানী দেবের সময়ে নিয়োগ অনিয়মের মাধ্যমে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষদের কারো সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এস. এম. সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ – অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুপারিশের মাধ্যমে পদ লাভ, গভর্নিং বডির দ্বারা সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের ৪৪,১১,১৩৪ টাকা তছরুপের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ – নথিতে বলা হয়, সভাপতি নিয়োগে ভুয়া তথ্য প্রদান, অবসর গ্রহণের আগের দিন একাধিক রেজুলেশন সম্পাদন, নিয়মবহির্ভূতভাবে সভা পরিচালনা এবং জনতা ব্যাংক ত্রিমোহনী বাজার শাখা থেকে একদিনে ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলনের অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তাধীন।
অভিযোগকারী লুৎফর রহমান তদন্ত কমিটির কাছে দাবি জানিয়েছেন— তিন সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত আদায়। জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ।পূর্ববর্তী বছরের হিসাব–নিকাশ ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে যাচাই। ভবিষ্যতে অনিয়ম রোধে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ।
মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং জানিয়েছে, উপস্থাপিত নথি, অভিযোগ ও আর্থিক উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

