ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চট্টগ্রামের এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় ছুটছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর পর শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটহাজারীতে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন তিনি। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি নিজেও ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ ছিটান।
হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৫টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে সচেতনতামূলক র্যালির পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করা হয়।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি এবং ৩ অক্টোবর কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এসব কর্মসূচিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মশকনিধন, নালা পরিষ্কার ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জলাশয়, সরকারি স্থাপনা ও মসজিদ প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা নির্ধারণ ও পরীক্ষার কিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারীর কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক বলেন, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে। ডেঙ্গুতে প্রাণহানিও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত তিন মাসের আগেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।
কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই বাংলা/এমএস