বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুয়া ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ ব্যবহার করে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশকে (আরএমপি) ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে রাজশাহী প্রেসক্লাব।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের সঙ্গে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সভায় নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকবিরোধী অভিযান ও যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পরিচয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

আলোচনার একপর্যায়ে অপপ্রচারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার সন্দেহে কাজলা এলাকার মাসুদ রানা রাব্বানী, বিলসিমলা এলাকার মাসুদ আলী পুলক ও আমবাগান এলাকার মামুনুর রহমান কাচুসহ কয়েকজনের নাম পুলিশ কমিশনারের কাছে উল্লেখ করা হয়। এ সময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতের বিভিন্ন মামলা ও কর্মকাণ্ডের নথিপত্রসহ কিছু তথ্য-প্রমাণ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির সাংবাদিকদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করছে। ফেসবুকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটার কাছ থেকে কারিগরি তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে সময় লাগতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি আরএমপির সাইবার অ্যান্ড ক্রাইম শাখা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ও ট্রাফিক) মো. ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি ও মিডিয়া মুখপাত্র) গাজিউর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শামিমা নাসরিনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় ‘জুলাই ৩৬’-এর সামনে অবস্থান নেন। সেখানে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা ভুয়া আইডি ও পেজের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর মাধ্যমে প্রেসক্লাব দখলের কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, দেশের বাইরে থেকে ভুয়া আইডি পরিচালনা করা হলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা সম্ভব। এ ঘটনায় কারা অর্থ ও ইন্ধন জোগাচ্ছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আরএমপিকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

প্রেসক্লাব সভাপতি ও দৈনিক দিনকালের ব্যুরো প্রধান আব্দুস সবুর বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চরিত্রহননমূলক অপপ্রচার শুধু ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয় নয়, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও প্রভাব ফেলে। তিনি জড়িতদের আইনের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক উপচারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরে ইসলাম মিলন, নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক ভোরের কাগজের প্রতিনিধি রাজিব আলী রাতুল এবং সদস্য মাজহারুল ইসলাম চপল বক্তব্য দেন।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজের মাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর