স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকাডুবিতে নিহত আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পবা উপজেলা প্রশাসন। নিহতদের স্বজনদের হাতে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নিহত জিয়ারুলের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে পবা উপজেলার কাটাখালী শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকায় নিহতদের বাড়িতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের নির্দেশনায় তিনি নিহতদের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে নৌকাডুবি থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ছয় শ্রমজীবী ব্যক্তিকেও সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সহায়তা গ্রহণের পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত আফছার আলীর স্ত্রী জাহেরা বেগম বলেন, “নৌকাডুবিতে আমি স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছি। মুহূর্তেই আমার সংসার শূন্য হয়ে গেছে। এই দুঃসময়ে উপজেলা প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার পিতৃহারা নাতি-নাতনির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
বাবা ও দাদাকে হারিয়ে শোকাহত শিশু তামিম বলে, “পদ্মা নদীর পানিতে আমার দাদা আর বাবা হারিয়ে গেছে। দাদা-বাবা বাড়ি এলে আমাদের জন্য মজা নিয়ে আসত। এখন আর কেউ মজা নিয়ে আসবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “এই দুর্ঘটনায় শুধু দুটি প্রাণ হারায়নি, দুটি পরিবারের প্রধান অবলম্বনও হারিয়ে গেছে। একজন মা একই সঙ্গে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়েছেন, আর শিশুরা হারিয়েছে তাদের বাবাকে। এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
তিনি আরও জানান, নিহত জিয়ারুলের সন্তানদের লেখাপড়া যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, “পদ্মার এই দুর্ঘটনায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো সহায়তায় পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরও আমরা চাই পরিবারগুলো যেন কখনো মনে না করে তারা একা। যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করা হবে।”
এই বাংলা/এমএস
টপিক

