বাগেরহাট প্রতিনিধি :
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বড় পরিসরের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এসব প্রকল্পে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে লি কিয়াং-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় মোংলা বন্দরের উন্নয়ন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে। বৈঠকে বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এর সংলগ্ন এলাকায় একটি আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিকায়নের ফলে পণ্য খালাস ও পরিবহনের সময় কমবে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ হবে এবং মোংলা বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পড়বে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৃহৎ আকারের বিদেশি অর্থায়ন ও ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তারা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, ব্লু-ইকোনমি এবং অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয় জনগণের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্ভাব্য সব চুক্তি ও সমঝোতা জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে।

