বকশীগঞ্জে দশানী নদীর ভাঙন রোধ ও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি :

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের বেতমারী গ্রামে দশানী নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মসজিদ, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙন রোধ এবং স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের পর নদীভাঙন কবলিত এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দশানী নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিনিয়ত সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পুরো সড়কটি নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, নদীভাঙনের কারণে এলাকার মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

আরেক বাসিন্দা আসাদুজ্জামান দুদু বলেন, নদীর ওপারে হাজার হাজার মানুষের বসবাস হলেও একটি স্থায়ী ব্রিজের অভাবে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মাওলানা আব্দুর রউফ বলেন, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। মানুষের জানমাল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মোশারফ মুন্সি বলেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এবং বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংরক্ষণ এবং নদীর দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে মুরাদ হোসেন বলেন, এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

অন্যদিকে মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাস্তা, মসজিদ, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here