রৌমারী সীমান্তে ৭৮ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় পরিবার, দুই শিশুকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের গয়টাপাড়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে টানা ৭৮ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন এক নারী। অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে থাকা পরিবারটির মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, মোছা. সুমি আক্তার (২৮), তার স্বামী মো. বেলাল হোসেন এবং তাদের দুই সন্তান—চার বছর বয়সী ফাতেমা ও পাঁচ মাস বয়সী সুমাইয়া—রোববার ভোর থেকে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের সন্ধানে পরিবারটি কয়েকদিন আগে ভারতে প্রবেশ করেছিল। পরে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত জটিলতায় তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন বলে জানা যায়।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা সুমি আক্তার মঙ্গলবার বিকেলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে বাচ্চাদের জন্য। রোদের মধ্যে থাকতে হচ্ছে, আবার রাতে বৃষ্টিতেও ভিজতে হচ্ছে। কী হবে, তা জানি না।”

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভেন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে মোট নয়জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি তা প্রতিহত করে। এরপর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ছাতা সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসানুর রহমান বলেন, “বিষয়টির সমাধানে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”

সীমান্তে আটকে থাকা পরিবারগুলোর দ্রুত মানবিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here