কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় দুই বছর বয়সী শিশু আয়েশার খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকালে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা চিলমারী উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করে।
এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল ১০টা থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন লেখাসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। সেখানে ক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে থাকে–‘আয়েশা হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করো’, ‘তুমি কে আমি কে–আয়েশা আয়েশা’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে’।
পরে বিক্ষোভকারীরা চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে চিলমারী মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। ঘটনার ১০ দিনেও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় এবং এ বিষয়ে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা এক পর্যায়ে চিলমারী উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পরে ইউএনও মোঃ মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।
অবরোধ চলাকালে সেখানে বক্তব্য দেন চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন সরকার শিরিন। তিনি বলেন, ‘একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য লজ্জার বিষয়। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো গড়িমসি সহ্য করা হবে না। বিচার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
নিহত আয়েশার পিতা মোঃ আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,‘আমার ছোট মেয়েটাকে নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ সন্দেহভাজন আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।’
নিহত আয়েশার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকার। গত ১৭ এপ্রিল সকালে বাড়ির পাশে খেলার সময় নিখোঁজ হয় সে। দিনভর নিখোঁজ থাকার পর রাতে বাড়ির পাশেই তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, বিষয়টি তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। পুলিশ ঘটনা নেপথ্যের কারণ ও খুনিদের ধরতে কাজ করছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

