কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা ও চর রাজীবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ-মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয় থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন সাধারণ জনগণ।
পরে রোববার (২৬ এপ্রিল) ‘কুড়িগ্রামের দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ’ শিরোনামে ভোগান্তির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচরে বসে বিদ্যুৎ বিভাগ ও মোবাইল অপারেটর সিম কোম্পানিগুলো।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা সরবরাহ হয়। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ হলেও কিছুক্ষণ পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা চালু হলেও এখনও একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আমাদের ভোগান্তির খবর সংবাদ প্রকাশের পর আজ সকাল থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও দুপুরের দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে। এতে ভোগান্তি কমে গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি, দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মোঃ আজিজুল হক বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় ইউএনও অফিসের নানা রকমের অনলাইন কাজ বন্ধ ছিল। ফলে সেবাগ্রহীতারা কিছুটা ভোগান্তিতে ছিল। এখন বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সরবরাহ থাকায় কাজ করতে পারছি।’
চর রাজিবপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো করতে পারিনি। পরে আজ বিদ্যুৎ চালু হওয়ায় অটোমেটিক নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে। কিন্তু লোডশেডিং রয়েছে।’
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
রৌমারী উপজেলার বাজারের আফিয়া কম্পিউটার ও স্টেশনারি ব্যবসায়ী মোঃ তৈবুর রহমান আকাশ বলেন, ‘গত দুই-তিন ধরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে ভোগান্তির রিপোর্ট কালবেলা অনলাইনে প্রকাশের পর বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় বিদ্যুৎ-মোবাইল নেটওয়ার্ক সার্ভিস সেবা সচল হয়েছে।’
রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বাজারের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল হাই মন্ডল বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় দোকানের ফ্রিজে রাখা মাংস, মাছ ও দুধ ও দুইসহ বিভিন্ন পণ্য পচে নষ্ট হয়েছে এবং রাত হলে অন্ধকারে দোকান চালাতে হয়েছে। এতে দোকানে কাস্টমার কমেছে। ফলে ব্যবসায় ধস নেমেছে।’
এসএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ‘টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রের একই সমস্যা। আমরা চাই পরীক্ষা চলাকালীন সময়টুকু বিদ্যুৎ লাইন সচল রাখার জন্য দাবি জানাচ্ছি।’
জামালপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোলান অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আজ দুপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে। এছাড়া সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং কমবে বলে আশা করছি।’
এই বাংলা/এমএস
টপিক

