রাজারহাটের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো যেন পরিত্যক্ত জনপদ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমার গ্রামে গৃহহীন, ভূমিহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নির্মিত ‘আশ্রয়ন প্রকল্প’ এখন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি উদ্যোগে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই বর্তমানে পরিত্যক্ত। অনেক ঘরে ঝুলছে তালা, আবার কিছু ঘর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে গুদাম।

জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরের চাবি, কবুলিয়ত দলিল, নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন। তবে হস্তান্তরের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই একে একে অনেক পরিবার প্রকল্প ছেড়ে চলে যায়। ফলে ফাঁকা পড়ে থাকা ঘরগুলো অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় ঘরগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দরজা-জানালা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, দেওয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। এছাড়া নিচু জমিতে ঘর নির্মাণ করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে বসবাসকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

আশ্রয়নের বাসিন্দা মোঃ কালাম হোসেন ও মোঃ বাদশা মিয়া জানান, মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও এখানে এখন দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় চারপাশ, চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ভূমিহীন মোঃ জয়নাল আবেদীন ও মোঃ হজরত আলী বলেন, নদীভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তারা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ প্রকল্পের অনেক ঘর ফাঁকা পড়ে থাকলেও নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ট্যাংক উপচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে ঘরের দরজা-জানালা চুরির ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইরশাদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কেউ ব্যবহার করে না। এজন্য আমিসহ অনেকে গরু বেঁধে রাখি।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, আশ্রয়নে বসবাসকারীদের অনেকেই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে যান। দীর্ঘদিন খালি থাকায় ঘরগুলো নষ্ট হয়ে যায়। সরকার যদি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয় তাহলে মানুষ আবার স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবে।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আল ইমরান বলেন, আশ্রয়নের ঘরগু‌লো গৃহহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস নিশ্চিত করার জন্য গ‌ড়ে তোলা হ‌য়ে‌ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।

আমরা এরই মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। প্রকল্পের অবকাঠামোগত সমস্যা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং বসবাস অনুপযোগী হওয়ার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা আবার এখানে বসবাস করতে পারেন।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here